সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মেহেরপুরের বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি | সবজি, মাছ ও মুরগির দামে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই বিপাকে
মেহেরপুর জেলার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি, মাছ ও মুরগির দামে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিশেষ করে আমদানি করা টমেটোর কেজিপ্রতি মূল্য এখন ২০০ টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আদার দাম ২৪০ টাকা, গাজর ১৫০ টাকা এবং শিম ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে দামের ঊর্ধ্বগতি ক্রেতাদের হতাশ করছে। একদিকে অতিরিক্ত খরচের চাপে ক্রেতারা, অন্যদিকে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজি, মাছ, মুরগি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও, কয়েকটি পণ্যের দাম সামান্য কমেছে।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, আদা ২৪০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কলা ৪০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, বরবটি ৪৫ টাকা, গাজর ১৫০ টাকা, ওল ৫০ টাকা, লালশাক ৪০ টাকা, পটল ৪৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, পুঁইশাক ২৫ টাকা, শিম ১২০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা এবং বিটরুট ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪২ টাকা, রসুন ৮৫ টাকা, কচু ৩৫ টাকা, টমেটো ১৬৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৬৫ টাকা, বেগুন ৬৫ টাকা, আদা ২১০ টাকা, শসা ৪৫ টাকা, কলা ৩২ টাকা, আলু ১৯ টাকা, লাউ ২৫ টাকা, পেঁপে ১০ টাকা, বরবটি ৩৫ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা, ওল ৩৫ টাকা, লালশাক ৩০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ২৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা, ঝিঙে ৩৬ টাকা, করলা ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৩৫ টাকা, পুঁইশাক ১৫ টাকা, শিম ১০০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা, মূলা ২০ টাকা এবং বিটরুট ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা জব্বার জানান, তাঁদের তহবাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ক্রেতারা আগের মতো পণ্য কিনছেন না। এতে দোকান ভরে পণ্য তুলেও বিক্রি কম হওয়ায় ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা আরও কঠিন হবে। ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, বাজারের সামগ্রিক পণ্যের আমদানি ভালো হলেও, বাইরের থেকে আসা সবজি, বিশেষ করে টমেটোর দাম অনেক বেশি। বেশি দামে কিনে আনার কারণে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ক্রেতারাও প্রয়োজন অনুযায়ী কম কিনছেন।
সবজি ক্রেতা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, পরিবারের জন্য প্রতিদিন সবজি কিনতে হয়, কিন্তু কিছু সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে টমেটোসহ আমদানি করা সবজির দাম আকাশছোঁয়া। তিনি বলেন, বাজারের পণ্যের দাম কেন বাড়ছে, তা তদারকি করা প্রয়োজন। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকলে অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
সবজির পাশাপাশি মাছ কিনতেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩৫০ টাকা, বড় সিলভার কার্প ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৯০ টাকা, পাঙ্গাস ১৯০ টাকা, বড় গ্লাসকার্প ৪০০ টাকা, বড় কাতলা ৪৫০ টাকা, দেশি চিংড়ি ১ হাজার টাকা, জিউল ৩২০ টাকা, কই ২০০ টাকা এবং বাটা মাছ ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩২০ টাকা, বড় সিলভার কার্প ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ টাকা, পাঙ্গাস ১৬৬ টাকা, বড় গ্লাসকার্প ৩৬০ টাকা, বড় কাতলা ৪০০ টাকা, দেশি চিংড়ি ৯০০ টাকা, জিউল ২৯০ টাকা, কই ১৭৫ টাকা এবং বাটা মাছ ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ী শ্রী পান কৃষ্ণ হালদার অভিযোগ করেন, মেহেরপুর বাজারে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আড়তের সামনেই খুচরা মাছ বিক্রি করছেন, যা আলাদা দোকান নিয়ে ব্যবসা করা খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। তিনি সুষ্ঠু ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আরেক মাছ ব্যবসায়ী বকুল হালদার বলেন, মাছের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। গত সপ্তাহের মতোই দাম রয়েছে, কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁরা প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা করতে পারছেন না। অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় কম মাছ কিনছেন, এতে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাছ ক্রেতা ফয়সাল মাহমুদ জানান, প্রতিদিন মাছের প্রয়োজন হলেও দাম দিন দিন বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমের অজুহাত দিলেও, এই বাড়তি দামের চাপ শেষ পর্যন্ত তাঁদের মতো সাধারণ ক্রেতাদেরই বহন করতে হচ্ছে। তিনি মাছের সরবরাহ ও দাম নিয়মিত তদারকি করে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা, লেয়ার ৩৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের মধ্যে চিনিহাঁস ৪৫০ টাকা, পাতিহাঁস ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং রাজহাঁস ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির ক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, আমঝুপি এলাকায় ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি মুরগি মেহেরপুর শহরের বাজারের তুলনায় কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা কমে পাওয়া যায়। একই এলাকার মধ্যে এই দামের পার্থক্য কেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বাজার যাচাই ও তদারকি বাড়ালে ক্রেতারা উপকৃত হবেন বলে মনে করেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি আটাশ চাল ৫৫ টাকা, লাল স্বর্ণা চাল ৫০ টাকা, আটা ৫০ টাকা, মসুর ডাল ১২০ টাকা, কলাই ডাল ২০০ টাকা, মটর ডাল ৬০ টাকা, ছোলা ডাল ১১০ টাকা এবং চিনি ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মেহেরপুরের বাজারে সবজি ও মাছের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। আমদানি করা সবজির বাড়তি দাম, মাছের বাজারে খুচরা ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ এবং বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের হতাশা সার্বিক বাজার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সনদ গ্রহণ করলেন মেহেরপুরের কাবাডি খেলোয়াড় সাফি
২ ঘন্টা আগে
মেহেরপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা
১ দিন আগে
আশুলিয়ায় ‘এটিসি ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
১ দিন আগে