লগইন
প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে আলমডাঙ্গা মফস্বলের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিশুর অর্জনে উজ্জ্বল চুয়াডাঙ্গা
বড় করে দেখুন
সহ-বার্তা সম্পাদক আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬ | ০৩:৩৭ রাত ৩৬২ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে আলমডাঙ্গা মফস্বলের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিশুর অর্জনে উজ্জ্বল চুয়াডাঙ্গা

রহমান মুকুল: চার জোড়া ছোট্ট হাত! চার জোড়া মুগ্ধ চোখের অগাধ বিস্ময়ে ভরা চোখ!আনন্দ আর স্বপ্নের ঝিলিক! আর তাদের সামনে দাঁড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী! রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ব্যস্ত আয়োজনের মাঝেও কয়েকটি মুহূর্ত যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আকিকের মাথায় স্নেহভরে হাত রাখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খোঁজ নিলেন পড়াশোনার। করমর্দন করলেন আমিরা, তাশজিদ ও সামিন ইয়াসারের সঙ্গে। মফস্বলের একটি সরকারি বিদ্যালয়ের চার শিশুর কাছে মুহূর্তটি ছিল স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার মতো। আকাশ ছোঁয়ার বিস্ময়াভিভূত হওয়ার মত।

সেই স্বপ্নের ঠিকানার নাম—আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

গত ১৫ জুলাই চীন মৈত্রী সম্মেলন কক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত বিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্টল প্রদর্শনের সুযোগ পায় বিদ্যালয়টি। দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাতারে জায়গা করে নেওয়া এই বিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল মফস্বলের একটি বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সাধনা, সাফল্য ও সম্ভাবনার জাতীয় স্বীকৃতি।

স্টলে উপস্থিত ছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণির আকিক, তৃতীয় শ্রেণির আমিরা, চতুর্থ শ্রেণির তাশজিদ ও সামিন ইয়াসার। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারেজ উদ্দীন, সহকারী শিক্ষক উম্মে জোবাইদা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।

তবে এই বিদ্যালয়ের গল্প আজকের নয়। বহু বছরের শ্রম, পরিকল্পনা এবং আত্মনিবেদনের ফসল আজকের এই অবস্থান। খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি একাধিকবার অর্জন করেছে আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগের কারণে বিদ্যালয়টি আজ মফস্বলের সরকারি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এই সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন স্বাপ্নিক প্রধান শিক্ষক হারেজ উদ্দীন। তিনি শুধু বিদ্যালয় পরিচালনা করেন না; তিনি কোমলমতি শিশুদের ভেতরের আলো জ্বালানোর চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতে বছরের পর বছর ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক শিশুর কাছে তাই তিনি শুধু 'স্যার' নন, 'বাবা'।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে হারেজ উদ্দীন তুলে ধরেন সেই মানবিক শিক্ষাযাত্রার গল্প। তিনি বলেন, সুযোগ আর স্নেহ পেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরাও সমাজের নেতৃত্ব দিতে পারে।

তার কথার প্রমাণও রয়েছে এই বিদ্যালয়ের ইতিহাসে।

একসময় এই বিদ্যালয়ের বেঞ্চে বসে পড়াশোনা করতেন জয় কুমার ব্যাধ। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের সেই শিক্ষার্থী আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে সম্মানজনক চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ের অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীর মতো জয়ও তার শিক্ষককে 'স্যার' নয়, 'বাবা' বলেই ডাকে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আরেক সাবেক শিক্ষার্থী বিদিশা আজ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের কৃতি খেলোয়াড়। মফস্বলের মাঠে ছুটে বেড়ানো সেই ছোট্ট মেয়েটি আজ জাতীয় জার্সি গায়ে মাঠে নামে। তার এই পথচলার শিকড়ও প্রোথিত রয়েছে আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উঠোনে।

এমন সাফল্যের গল্পই প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন হারেজ উদ্দীন। মনোযোগ দিয়ে সব কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় যেকোনো সহযোগিতার বিষয়ে যোগাযোগ করতে বলেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ শুধু একটি বিদ্যালয়ের নাম নয়। এটি প্রমাণ করেছে, রাজধানী থেকে অনেক দূরের একটি মফস্বল শহরেও নিষ্ঠাবান স্বাপ্নিক শিক্ষক, স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী এবং সচেতন অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠতে পারে জাতীয় মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেই কয়েক মিনিট হয়তো অনুষ্ঠানসূচির একটি ছোট অংশ। কিন্তু আলমডাঙ্গার মানুষের কাছে তা এক বিশাল প্রাপ্তি। কারণ সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়েছিল শুধু চারজন শিক্ষার্থী নয়; দাঁড়িয়েছিল একটি উপজেলা, একটি বিদ্যালয়, একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রধান শিক্ষক এবং অগণিত স্বপ্নবাজ শিশুর ভবিষ্যৎ।

হয়তো বহু বছর পর আকিক, আমিরা, তাশজিদ কিংবা সামিন ইয়াসার যখন জীবনের নতুন অধ্যায়ে পৌঁছবে, তখন তারা ফিরে তাকিয়ে বলবে—একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাথায় স্নেহের হাত রেখেছিলেন। আর সেই স্পর্শ আমাদের স্বপ্নকে আরও বড় করে দিয়েছিল। আমাদের মাথার উপরের আকাশও অনেক উঁচু আর উদার হয়েছিল।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

সেরা কর্মীরা পেলেন বিশেষ সম্মাননা

২২ মিনিট আগে
সেরা কর্মীরা পেলেন বিশেষ সম্মাননা

মেহেরপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা

২২ মিনিট আগে
মেহেরপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা

আলমডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

৪০ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গায় ১১টি মাদক মামলার পলাতক আসামী লিজু মালিথাসহ ২জন গ্রেফতার: জিসানের ৬ মাসের কারাদন্ড

৪৫ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গায় ১১টি মাদক মামলার পলাতক আসামী লিজু মালিথাসহ ২জন গ্রেফতার:  জিসানের ৬ মাসের কারাদন্ড

আশুলিয়ায় ‘এটিসি ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

১ ঘন্টা আগে
আশুলিয়ায় ‘এটিসি ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

ফি, ফরম পূরণ ও সময়সূচি ঘোষণা

১ ঘন্টা আগে
ফি, ফরম পূরণ ও সময়সূচি ঘোষণা

মেহেরপুরে ইজতেমার নিরাপত্তা জোরদারে জেলা পুলিশের বিশেষ ব্রিফিং

২ ঘন্টা আগে
মেহেরপুরে ইজতেমার নিরাপত্তা জোরদারে জেলা পুলিশের বিশেষ ব্রিফিং

রিপাবলিকানদের চ্যালেঞ্জে ট্রাম্প, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা

২ ঘন্টা আগে
রিপাবলিকানদের চ্যালেঞ্জে ট্রাম্প, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা

গাংনীতে প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে বিএনএফ-এর অর্থায়নে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ

৩ ঘন্টা আগে
গাংনীতে প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে বিএনএফ-এর অর্থায়নে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩ ঘন্টা আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।