সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি | ঝুকিতে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য
সন্তানের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পুষ্টি নিয়ে প্রতিটি বাবা-মায়ের উদ্বেগের শেষ নেই। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চারপাশের বাস্তব চিত্র মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। অধিকাংশ স্কুল-কলেজের আশপাশেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান, যেখান থেকে দৈনন্দিন টিফিনে ক্ষতিকর ও মানহীন খাবার কিনে খাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এটি শুধু বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়, বিশ্বজুড়ে একই ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলে জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বড় বড় নগরগুলোর প্রতি ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৯টির আশপাশেই অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় বিক্রির দোকান রয়েছে। বিশেষ করে স্ন্যাকসের দোকান, সুপারমার্কেট এবং মিষ্টান্ন বিক্রির কেন্দ্রগুলো শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালেই গড়ে উঠছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা হাতখরচের টাকা দিয়ে যা কেনাকাটা করে, তার প্রায় ৭৫ শতাংশ বা চারভাগের তিনভাগই অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাত খাবার। স্কুলের বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা সহজেই সসেজ রোল, ক্যান্ডি, চিপস ও অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত কোমল পানীয়ের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকার রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে দেদার বিক্রি হওয়া ঝালমুড়ি, চটপটি, আখের রস, মিক্সড সালাদ ও স্যান্ডউইচের মতো জনপ্রিয় খাবারগুলোতে অতিমাত্রায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব খাবার গ্রহণের ফলে শিশুরা প্রায়শই ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও পেটের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
পরিতাপের বিষয় হলো, খাদ্যের এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার চরম অভাব রয়েছে। অনেক অসচেতন অভিভাবকও জেনে-বুঝে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম- নীতি বা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এসব দোকান গড়ে উঠছে। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা করা হলেও পরবর্তীতে আবারও একই নোংরা পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রির মহোৎসব চলে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে যেন কোনো অস্বাস্থ্যকর ও মানহীন খাবারের দোকান বসতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাসমূহকে আরও কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানরা যেন টিফিনে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত হয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করা জরুরি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১৮ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় সিজারের ১৮ ঘন্টা পর প্রসূতির মৃত্যু, বেঁচে আছে নবজাতক
১ দিন আগে
চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ
১ সপ্তাহ আগে