আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
আলমডাঙ্গায় নানা অনিয়মের অভিযোগে ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত উভয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তার এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ.এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সবুজ রানা এবং আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর কবীর সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার আনন্দধাম সড়কে অবস্থিত ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি বিধি অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং রোগী নিবন্ধন সংক্রান্ত নথিপত্রের ঘাটতি পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডা. নজরুল ইসলামকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ ও নথিপত্রের ঘাটতি দূর না করা পর্যন্ত ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে কলেজপাড়ায় অবস্থিত লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং রোগী নিবন্ধন সংক্রান্ত নথিপত্রের ঘাটতির পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে দেখতে পান অভিযান পরিচালনাকারীরা। এসব অনিয়মের দায়ে হাসপাতালটিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনে দুটি ক্লিনিকে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান, প্রয়োজনীয় জনবল, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।