সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ঝিনাইদহে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আনোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১১ নম্বর পদ্মাকর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, অর্থ আত্মসাৎ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, সরকারি জমি দখল এবং মাদকের কারবারে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা এসব অনিয়ম ও নির্যাতনের হাত থেকে প্রতিকার চেয়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকাটিতে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন আনোয়ার হোসেন ও তাঁর অনুসারীরা। তারা স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এই সময়ে লৌহজাঙ্গা গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে চাঁদা আদায়, বাস ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড থেকে কমিশন বাণিজ্য এবং হাটগোপালপুর খাদ্যগুদামে ধান-চালের কারবার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পাইকপাড়া আবাসন এলাকায় অনিক ও তাঁর বাবা আজাদের কাছ থেকে ছাগল চুরির ভুয়া অভিযোগে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এ ছাড়া হাটগোপালপুর বাজারে সাতটি দোকানে চুরি করিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তাছাড়াও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাটগোপালপুর বাজারের ইজারার প্রায় ২১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সামাজিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর নির্যাতন চালানোর খবর পাওয়া গেছে। ঝিনাইদহ সদর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাকিব আহমেদের চাচা আরিফকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া, কালা লক্ষ্মীপুর গ্রামে মাহাবুব নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাই হাসানের পাটের ট্রাকে হামলা চালানোর ঘটনাও অভিযোগপত্রে স্থান পেয়েছে। হাসান জানান, ১০ লাখ টাকার পাটের বিপরীতে শালিসের মাধ্যমে মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন আনোয়ার।
অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—বিএনপি কর্মী জাহিদ মোল্লার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়, জমি বিক্রির অর্থ থেকে কাজল বিশ্বাসের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করা। তা ছাড়া, তাঁর ভাগ্নে সুমনের মাধ্যমে এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাহিদ মোল্লা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও ৫ আগস্টের পর তাঁকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। পরে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছেন এবং এখনো আনোয়ারের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এবং নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু জানান, আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলীয় নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।