এলজিইডির সড়ক উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে আলমডাঙ্গার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতি
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
এলজিইডির সড়ক উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে আলমডাঙ্গার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতি
একসময় বর্ষা এলেই গ্রামের অনেক সড়ক হয়ে উঠত দুর্ভোগের কারণ। কাঁদামাটি আর খানাখন্দ পেরিয়ে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও পরিবহন খরচ গুনতে হতো কৃষকদের। কোথাও সেতু-কালভার্টের সংকটে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত এক গ্রামের সঙ্গে আরেক গ্রামের যোগাযোগ। সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন প্রকল্পে সড়ক, সেতু-কালভার্ট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে আলমডাঙ্গার প্রত্যন্ত জনপদে সহজ হয়েছে যোগাযোগ। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়ক উন্নয়ন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, হাটবাজার ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব কাজের ফলে গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদর এবং গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।
উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের কৃষক কোরবান আলী বলেন, আগে ক্ষেতের ফসল বাজারে নিতে ভ্যান বা ইজিবাইক নিয়ে অনেকটা ঘুরে যেতে হতো। বর্ষার সময় কাঁচা রাস্তার কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ত। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় কম সময়ে ফসল বাজারে নেওয়া যায়। এতে পরিবহন খরচও কিছুটা কমেছে।
শুধু কৃষক নন, এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রোগীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি ভালো সড়ক গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে যেমন সহজ করে, তেমনি বাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ায়।
নারায়নপুরের সবজি চাষি ফারুক জানান,তার ক্ষেত থেকে শসা ও ঝিঙ্গে তুলে পাখি ভ্যানে আলমডাঙ্গার সবজি আড়তে পাঠিয়ে দিতে পারছেন। এক বছর আগেও তা সম্ভব ছিল না কাচা রাস্তার জন্য।
এলজিইডি আলমডাঙ্গা উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, টয়লেট, সীমানাপ্রাচীর ও গেট নির্মাণের কাজ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও গ্রোথ সেন্টারের মতো স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও কাজ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ও খাল পুনঃখননের কাজও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সম্প্রতি বদলি হওয়া উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ বলেন, “গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক, সেতু-কালভার্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ এবং নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠপর্যায়ের তদারকির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও এসব কাজের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আলমডাঙ্গার অর্থনীতির বড় অংশ কৃষিনির্ভর। ধান, ভুট্টা, সবজি, পাটসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করেন গ্রামের কৃষকেরা। উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছতে পারলে একদিকে পরিবহন ব্যয় কমে, অন্যদিকে পণ্যের মান ধরে রাখা ও ন্যায্য দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। ফলে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতার একটি সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
আকুল হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে গ্রামের অনেক জায়গা থেকে পণ্য আনা-নেওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগত। রাস্তা ভালো হওয়ায় এখন গাড়ি চলাচল সহজ হয়েছে। এতে ব্যবসার কাজও আগের চেয়ে কমেছে।”
তবে উন্নয়নের এই সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে নির্মাণকাজের গুণগত মানের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে অভিজ্ঞজনেরা মন্তব্য করেন। কারণ, নতুন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য রাখাই গ্রামীণ যোগাযোগ ও অর্থনীতির স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের ইংরেজি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কোচিং পরিচালকসহ আটক ২ : মুচলেকায় মুক্তি
১৩ ঘন্টা আগে
রাসেল মিয়া
১৩ ঘন্টা আগে
দর্শনা কেরু ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সিডিএ ও সিআইসিদের মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ সভা
১৪ ঘন্টা আগে