দীর্ঘআলমডাঙ্গায় ১৪ মাস পর টিএলসিসি সভা, ৪ মাসেই উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত ইউএনও
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় দীর্ঘ ১৪ মাস পর টিএলসিসি সভা, ৪ মাসেই উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত ইউএনও
প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি সভা হওয়ার কথা। অথচ আলমডাঙ্গা পৌরসভার শহর সমন্বয় কমিটি—টিএলসিসির সভাই হয়নি প্রায় ১৪ মাস। দীর্ঘ এই বিরতির পর অবশেষে গত সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রৈমাসিক সভা। দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যে সভাটি আয়োজন করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এর আগে দায়িত্ব পালন করা দুই ইউএনওর সময়ে দীর্ঘদিন টিএলসিসির সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।
জনপ্রতিনিধিবিহীন আলমডাঙ্গা পৌরসভায় নাগরিকদের মতামত জানানোর প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ হিসেবে টিএলসিসির গুরুত্ব এখন আরও বেশি। অথচ দীর্ঘদিন সভা না হওয়ায় পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট ও নাগরিক সেবার বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত কতটা পৌর প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শহর সমন্বয় কমিটি মূলত পৌর প্রশাসন ও নাগরিকদের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সংযোগের জায়গা। পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন, চলমান উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জনসেবার মান নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এ কমিটির মাধ্যমে। নারী, নিম্নআয়ের মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের অংশগ্রহণও এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শহর সমন্বয় কমিটির নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি টিএলসিসি সভা হওয়ার কথা। কিন্তু আলমডাঙ্গায় সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ বিরতিতে নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। কারণ সভা না থাকলে শুধু একটি বৈঠকই বা মতবিনিময় বন্ধ থাকে না; পৌরসভার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সরাসরি মতামত দেওয়ার একটি পথও কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। আলমডাঙ্গা পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নাগরিকদের সমস্যা, দাবি ও প্রস্তাব পৌর প্রশাসনের কাছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে টিএলসিসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এদিকে, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটসহ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নাগরিক মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় টিএলসিসি সভা না হওয়ায় এসব বিষয়ে নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগও সীমিত ছিল বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ২৮ সেপ্টেম্বরের সভাটি কেবল একটি নিয়মিত বৈঠক নয়; দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নাগরিক অংশগ্রহণের একটি প্রাতিষ্ঠানিক পথ পুনরায় সচল হওয়ার ঘটনাও। তবে সভা আয়োজনের মধ্যেই এর সাফল্য সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সভায় নাগরিকদের উত্থাপিত সমস্যা, প্রস্তাব ও মতামত পৌরসভার সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গত ১৪ মে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগ দেন শাহীনুর আক্তার। একই সঙ্গে তিনি পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। যোগদানের প্রায় চার মাসের মাথায় টিএলসিসির সভা আয়োজন করায় তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ বিরতির পর সভা আয়োজনের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়েও প্রশংসা পেয়েছে।
আলমডাঙ্গা পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তার। সভায় আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল হাসান, পৌরসভার সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও টিএলসিসির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা, ১৪ মাসের বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই সভা যেন আবার দীর্ঘ বিরতির কারণ না হয়। বরং নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে সভা আয়োজনের ধারাবাহিকতা ফিরুক। একই সঙ্গে পৌরসভার বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নাগরিক সেবার সিদ্ধান্তে টিএলসিসিতে উঠে আসা মতামতকে বাস্তব গুরুত্ব দেওয়া হোক।
কারণ টিএলসিসির মূল উদ্দেশ্য শুধু সভা করা নয়—শহরের মানুষ কী চান, কোন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিতে চান এবং পৌরসভার উন্নয়ন কীভাবে হওয়া উচিত, সেই নাগরিক মতামতকে পৌর ব্যবস্থাপনার অংশ করে নেওয়া। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আলমডাঙ্গায় সেই প্রক্রিয়াটিই আবার শুরু হলো।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে মাদক মামলা ও পরোয়াভুক্ত আসামীসহ ৫ জন গ্রেফতার : ইয়াবা উদ্ধার
৪০ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : তিন মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা
৪৪ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
৪৬ মিনিট আগে