আলমডাঙ্গায় অবৈধ পথে আনা ৪৪০ বস্তা টিএসপি আটকের ঘটনায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা : কৃষকের প্রশ্ন-এত বড় অপরাধে এত কম শাস্তি কেন?
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সার আটক | আলমডাঙ্গায় অবৈধ পথে আনা ৪৪০ বস্তা টিএসপি আটকের ঘটনায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা : কৃষকের প্রশ্ন-এত বড় অপরাধে এত কম শাস্তি কেন?
অবৈধ পথে বিপুল পরিমাণ টিএসপি সার পাচারের সময় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ৪৪০ বস্তা সারসহ একটি ট্রাক আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সারের মালিক ভাংবাড়িয়া গ্রামের মিনারুল ইসলাম, ট্রাকচালক শাকিল হোসেন ও হেলপার ইসরাফিলকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সারের মালিক মিনারুল ইসলামকে মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা ৪৪০ বস্তা সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধ পথে পরিবহনের ঘটনায় মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার নিয়ে এমন কারসাজি ও পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল। প্রয়োজনে নিয়মিত মামলা করে জেলে পাঠানো দরকার ছিল।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকদের সহায়তায় উপজেলার কয়রাডাঙ্গা এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি সার আটক করে হাঁপানিয়া ক্যাম্প পুলিশ। পুলিশ জানায়, হাঁপানিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ জুম্মান খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল কয়রাডাঙ্গা এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় ভালাইপুর থেকে হাটবোয়ালিয়া অভিমুখে একটি ট্রাক যেতে দেখে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। ট্রাকটি থামিয়ে ত্রিপল সরাতেই ভেতরে বিপুল পরিমাণ টিএসপি সার দেখতে পায় পুলিশ। পরে সারের কাগজপত্র ও পরিবহনের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে ট্রাকসহ সার জব্দ করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে ৪৪০ বস্তা টিএসপি সারের মালিক আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম, ট্রাকচালক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে শাকিল হোসেন এবং ট্রাকের হেলপার খুলনার ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।
হাঁপানিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ জুম্মান খান জানান, ট্রাকচালক শাকিল হোসেনের কাছ থেকে ৪৪০ বস্তা টিএসপি সারের চালান জব্দ করা হয়েছে। যশোরের নওয়াপাড়ার ‘দিনান ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাকযোগে সারগুলো চুয়াডাঙ্গার বিএডিসি গোডাউনের নাম করে নিয়ে আসা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ভাংবাড়িয়া গ্রামের সার ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই সার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। চলতি বছরও তার গোডাউন থেকে কয়েক দফায় পাচারকৃত শতাধিক বস্তা সার আটক করেছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। তার গোডাউনে অভিযান চালিয়ে একাধিকবার জরিমানাও করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তিনি সারগুলো গাংনী ও মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেশি দামে পাচার করেন। এরপরও অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বারবার জরিমানার পরও কেন থামছে না সার নিয়ে অনিয়ম?
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করা হলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রকৃত কৃষকেরা। ফলে এমন কর্মকাণ্ডে শুধু নামমাত্র জরিমানা করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও উৎসাহিত হতে পারেন।
একজন স্থানীয় কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার চোরাই পথে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। এর আগে একই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও অভিযান হয়ে থাকলে এবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। প্রয়োজনে তাকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো উচিত।
এবিষয়ে ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলাম জানান, ট্রাকে ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার রয়েছে। তিনি ১৫০০ টাকা প্রতি বস্তা সার নওয়াপাড়া ক্রয় করে নিয়ে আসছিলেন।
সংবাদ পেয়ে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকভর্তি সার নিজেদের হেফাজতে নেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। পরে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনূর আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অধিক মুনাফার আশায় চোরাই পথে সার পরিবহনের ঘটনায় ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। সার বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা মুজাইল নাবিলা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উদয় রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, আব্দুর রফিক, আলমডাঙ্গা থানার এসআই শাহারিয়ার হোসাইন রুবেলসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, একই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অতীতেও সার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ও অভিযান হয়ে থাকলে বিষয়টি শুধু জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার সার ব্যবসার বৈধতা, গুদামের মজুত, পূর্বের জরিমানা এবং সার সরবরাহের পুরো চেইন খতিয়ে দেখা হোক। কৃষকদের বরাদ্দকৃত সার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে মাদক মামলা ও পরোয়াভুক্ত আসামীসহ ৫ জন গ্রেফতার : ইয়াবা উদ্ধার
৪০ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : তিন মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা
৪৪ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
৪৬ মিনিট আগে