লগইন
আলমডাঙ্গাসহ জেলায় অধিকাংশ স্কুল-মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া না হওয়ার অভিযোগ।। মাউশির নির্দেশনা উপেক্ষা
বড় করে দেখুন
সহ-বার্তা সম্পাদক আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ০৭:১৯ সকাল ৫১৭ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

শিক্ষা চুয়াডাঙ্গা
আলমডাঙ্গাসহ জেলায় অধিকাংশ স্কুল-মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া না হওয়ার অভিযোগ।। মাউশির নির্দেশনা উপেক্ষা

আলমডাঙ্গাসহ চুয়াডাঙ্গা জেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বছরের পর বছর ধরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিছু হাতে গোনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশিরভাগ স্কুল ও মাদ্রাসার মাঠ আজও নীরব। দৌড়ঝাঁপ, হাসি-চিৎকার আর বিজয়ের উল্লাস সেখানে আর শোনা যায় না।


বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ সময় কাটাচ্ছে মোবাইল ফোন, অনলাইন গেম আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। খেলাধুলার মাঠ থেকে তারা ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ, দলগত মনোভাব ও শারীরিক সুস্থতা নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন। 


শিক্ষাবিদদের মতে, এই সময়ে শিক্ষার্থীদের সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত খেলাধুলার বিকল্প নেই।


খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহশিক্ষা কার্যক্রম। খেলার মাঠেই শিক্ষার্থীরা শেখে দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ। ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে দল ও সমাজের স্বার্থ বড় করে দেখার শিক্ষা দেয় খেলাধুলা। হার-জিতের ভেতর দিয়ে জীবনের বাস্তবতা বুঝতে শেখে তারা। কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ উল্টো।


আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ৬০টির বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর, এমনকি দীর্ঘ সময়েও একবারও খেলাধুলার আয়োজন হয়নি। একই অবস্থা জেলা সদরের ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১০টি মাদ্রাসা, জীবননগর উপজেলার ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৮টি মাদ্রাসা এবং দামুড়হুদা উপজেলার ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১১টি মাদ্রাসার।


অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের সঙ্গে ক্রীড়া ফি আদায় করা হয়। রশিদের মাধ্যমেই নিয়মিত এই টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকার বিনিময়ে বছরে একবারও খেলাধুলার আয়োজন করা হয় না। ফলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।


কুমারী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান বলেন, “অধিকাংশ স্কুল-মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া না হওয়া খুবই দুঃখজনক। প্রতিটি খাতের টাকা সেই খাতেই ব্যয় হওয়া উচিত। ক্রীড়ার টাকা ক্রীড়ার কাজেই খরচ করতে হবে। না হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।”


এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, “আগে বার্ষিক ক্রীড়া আয়োজন অনেকটাই ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করত। এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে। তারপরও আমরা মাসিক মিটিংয়ে প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত তাগাদা দিচ্ছি। জাতীয় পর্যায়ের খেলায় অংশগ্রহণও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”


এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন বাধ্যতামূলক করেছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের উদ্দেশে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি। সে লক্ষ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।


কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মাউশির বেঁধে দেওয়া সময় ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়ার আয়োজন করা হয়নি। নির্দেশনা আর বাস্তবতার এই ফারাক নতুন করে প্রশ্ন তুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়ে।


মাউশির নির্দেশনার পরও যদি মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে ক্রীড়া ফি আদায় ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেবে—এমনটাই মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

আরবদের বাদ দিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ চান নেতানিয়াহু, বৈঠকে বিরোধীরা

৪ ঘন্টা আগে
আরবদের বাদ দিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ চান নেতানিয়াহু, বৈঠকে বিরোধীরা

উপার্জন ও রিজিকে বরকত আনার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নববি আমল

৪ ঘন্টা আগে
উপার্জন ও রিজিকে বরকত আনার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নববি আমল

পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা, খসড়া আইনে জনমতের আহ্বান

৮ ঘন্টা আগে
পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা, খসড়া আইনে জনমতের আহ্বান

ফল খারাপ হলে ট্রাম্পের পরবর্তী কৌশল কী?

৯ ঘন্টা আগে
ফল খারাপ হলে ট্রাম্পের পরবর্তী কৌশল কী?

এলপিজির দাম সমন্বয় হোক, তবে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে নয়

৯ ঘন্টা আগে
এলপিজির দাম সমন্বয় হোক, তবে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে নয়

আলমডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় খালে পণ্যবোঝাই আলমসাধু : সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতির আশঙ্কা

১০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় খালে পণ্যবোঝাই আলমসাধু : সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতির আশঙ্কা

আলমডাঙ্গায় নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

১০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

আলমডাঙ্গায় ট্যাপেন্টাডলসহ দুই যুবক গ্রেফতার

১০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় ট্যাপেন্টাডলসহ দুই যুবক গ্রেফতার

নজর সার্বভৌম বন্ড ও আন্তর্জাতিক বাজারে

১০ ঘন্টা আগে
নজর সার্বভৌম বন্ড ও আন্তর্জাতিক বাজারে

অ্যান্থনি গর্ডন

১০ ঘন্টা আগে
অ্যান্থনি গর্ডন

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।