আলমডাঙ্গা দুই প্রসূতির মৃত্যু: সিভিল সার্জনের অভিযান, জরিমানা ১০ হাজার টাকা
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় দুই প্রসূতির মৃত্যু: সিভিল সার্জনের অভিযান, জরিমানা ১০ হাজার টাকা
আলমডাঙ্গার ফাতেমা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে সম্প্রতি দুই প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ সময় সেবায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমডাঙ্গার দুর্লভপুর গ্রামের মুস্তাক আহম্মেদের স্ত্রী চামেলি খাতুন গত ৭ এপ্রিল প্রসব বেদনা নিয়ে ফাতেমা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি সন্তান জন্ম নিলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, উপজেলার পরকুলা গ্রামের শাহিন আলীর স্ত্রী লাবনী খাতুনকে গত ১৪ এপ্রিল একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতা দেখা দিলে তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দুই পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না থাকলেও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. আওলিয়ার রহমান ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহম্মেদ শফিউল্লাহ’র নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাসপাতালের ওটি ও অন্যান্য সেবাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেন।
অভিযানকালে হাসপাতালের সেবায় কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে ভোক্তা অধিকার আইনে এক রোগীকে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই রক্ত দেওয়ার ঘটনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. মো. আওলিয়ার রহমান জানান, “দুই রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমরা পরিদর্শন করেছি। একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক প্রসূতির ক্ষেত্রে পূর্বে কুষ্টিয়ার আদ দ্বীন প্রতিষ্ঠানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছিল এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। বিষয়টি নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তাদের অভিযোগ নিজেরা অপারেশনের আগে কেন আল্ট্রা সনোগ্রাম করানো হয়নি।
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীর অবস্থা ও পূর্ববর্তী চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু জটিলতা ছিল। অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস। বার বার চাপ দিয়েও নতুন করে আল্ট্রা সনোগ্রাম করানো যায় নি।
প্রসূতির পেটে তার স্বামী লাথি মেরেছিলেন আল্ট্রা সনোগ্রাম করানোর পরে। সেটিও গোপন করা হয়। রোগীপক্ষের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় কুমারী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
৫ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় মাদক মামলার পলাতক আসামি লিজা এবং ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার
৫ ঘন্টা আগে
অটিজম ও বিশেষ শিশুদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত ইয়াশা সোবহান
৫ ঘন্টা আগে