সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কুষ্টিয়ার খোকসায় বেকারি ওভেন বিস্ফোরণ | প্রধান মিস্ত্রি নিহত, গুরুতর দগ্ধ ২
যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি
হুমায়ুন কবির, খোকসা/
কুষ্টিয়ার খোকসায় একটি বেকারিতে ভয়াবহ গ্যাসচালিত ওভেন বিস্ফোরণে প্রধান মিস্ত্রি নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনা কর্মস্থলে যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করেন, সেখানে কীভাবে একটি ওভেন বিস্ফোরিত হলো এবং এর পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে খোকসা বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাজবাড়ী মহাসড়কসংলগ্ন মক্কা-মদিনা ফিলিং স্টেশনের পাশে মাঠপাড়ার মডার্ন বেকারিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ প্রধান মিস্ত্রি মিরাজ শেখ (৪০) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই ঘটনায় আহত অপর দুই শ্রমিক সজীব শেখ (২৭) ও বিল্লু শেখ (২২) বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত মিরাজ শেখ খোকসা উপজেলার কমলাপুর মিয়াপাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত আসলাম শেখের পুত্র। আহত শ্রমিক সজীব শেখ ওসমানপুর দেবীনগর গ্রামের আলমগীর শেখের ছেলে এবং বিল্লু শেখ হেলালপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার সময় বেকারিতে স্বাভাবিক কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই একটি বিকট শব্দে ওভেনটি বিস্ফোরিত হয়। এতে যন্ত্রটির নিকটস্থ তিন শ্রমিক গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবুজ সায়েম তাঁদের অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধান মিস্ত্রি মিরাজ শেখের মৃত্যু হয়।
এই দুর্ঘটনার পর মূল প্রশ্নটি হলো—কী কারণে ওভেনটি বিস্ফোরিত হলো? সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, যন্ত্রটির কার্যকারিতা, ব্যবহার পদ্ধতি, পরিচালনার ইতিহাস, সর্বশেষ রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য এবং বেকারির সামগ্রিক অগ্নি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা প্রোটোকল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে না দেখলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা অসম্ভব। এছাড়া, শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি ছিল কিনা, সে বিষয়টিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।
মডার্ন বেকারির মালিক হাজী মতিন এই দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর পুত্র মিজানুর রহমান বেকারিটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন। মিজানুর রহমান জানান, দগ্ধ দুই শ্রমিক কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন এবং তাদের সুস্থতার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
একজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং অন্য দুজনের গুরুতর আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ওভেন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির বিস্তারিত পরীক্ষা করা, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি বা ত্রুটি ছিল কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা। যদি তদন্তে কোনো অবহেলা বা ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীমহল।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন চেষ্টার অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক কারাগারে
১ দিন আগে
পূজার পথে নারীদের স্বর্ণালংকার ও মোবাইল লুট
১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় সাঁইজির আখড়াবাড়ি থেকে বোমাসদৃশ বস্তু ও বিস্ফোরক উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট
৩ দিন আগে