সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
নতুন কুঁড়ির জয়োৎসবে উল্লাসে ভাসল আলমডাঙ্গা।। ক্ষুদে চ্যাম্পিয়নদের ফুলেল বরণ ইউএনও’র
রহমান মুকুল: সোমবার বিকেলের আলমডাঙ্গা যেন আর দশটা দিনের মতো ছিল না। শহরের বাতাসে ছিল উৎসবের গন্ধ, মানুষের চোখেমুখে ছিল অদ্ভুত এক আনন্দের দীপ্তি।
এ যেন শহরের বুকে হঠাৎ করেই নেমে এলো এক টুকরো উৎসবের মৌসুম।
বাতাসে ভেসেছে ব্যান্ডপার্টির উচ্ছ্বসিত সুর, রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল, আর সেই ঢলের মাঝখানে মাথা উঁচু করে এগিয়ে চলেছে একঝাঁক দীপ্ত কিশোর-কিশোরী। কারও হাতে ট্রফি, কারও গলায় মেডেল, কারও চোখে অদম্য স্বপ্নের ঝিলিক।
মনে হচ্ছিল—একঝাঁক স্বপ্নবাজ কিশোর-কিশোরীর পদচারণায় নতুন করে জেগে উঠেছে আলমডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬”-এ অভাবনীয় সাফল্য অর্জনকারী আলমডাঙ্গার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের সম্মানে বিকাল ৫টায় এ-টিম মাঠ থেকে বের হয় এক বর্ণাঢ্য আনন্দর্যালি। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি উপজেলা প্রশাসন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
ব্যান্ডের ঝংকারে এগিয়ে চলা সেই বিজয়যাত্রায় ছিল এক অপার্থিব আবেগ। সামনে উড়ছিল বিজয়ের পতাকা, আর তার পেছনে দীপ্ত মুখে হাঁটছিল আলমডাঙ্গার গর্ব হয়ে ওঠা কিশোর-কিশোরীরা। কেউ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে, কেউ বন্ধুদের কাঁধে হাত রেখে হাসছে, কেউবা আনন্দে নেচে উঠছে। তাদের চোখে তখন শুধুই স্বপ্ন—আর সেই স্বপ্নের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছিল পুরো শহর।
রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় ক্ষুদে চ্যাম্পিয়নদের। দোকানপাট থেকে বেরিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা, ছুটে আসে শিশুরা, থমকে দাঁড়ায় পথচারীরা। কেউ মোবাইলে ছবি ধারণ করেন, কেউ করতালি দিয়ে বলেন—“এরা আমাদের গর্ব।”
অনেকের চোখেমুখে তখন এক ধরনের আবেগও ছিল। কারণ বহুদিন পর আলমডাঙ্গা এমন এক আনন্দ দেখলো, যে আনন্দে ছিল না কোনো বিভেদ, ছিল না কোনো কোলাহল—ছিল শুধু বিজয়ের নির্মল হাসি। যে শহরকে ঘিরে প্রায়ই মাদক, হতাশা আর অনিয়মের গল্প শোনা যায়, সেই শহরের বুকেই একঝাঁক কিশোর-কিশোরী এদিন লিখে দিলো সম্ভাবনার নতুন মহাকাব্য।
উপজেলা চত্বরে পৌঁছলে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিজয়ী খেলোয়াড়দের। পরে তাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। এসময় ক্ষুদে খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। কেউ নাচছে, কেউ বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলছে। মুহূর্তটি যেন শুধুই ভালোবাসা আর গর্বে ভরা এক অনন্য দৃশ্য।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন,“আজকের এই সাফল্য শুধু কিছু ট্রফি জয়ের নয়, এটি আলমডাঙ্গার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প। আমাদের সন্তানরা দেখিয়ে দিয়েছে—গ্রামের মাঠ থেকেও বড় স্বপ্ন জন্ম নেয়। আমরা চাই, তারা আরও এগিয়ে যাক, দেশের জন্য খেলুক, একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলমডাঙ্গার নাম উচ্চারণ হোক গর্বের সঙ্গে।”
এ আনন্দ র্যালির পুরোভাগে ছিলেন টিম ম্যানেজার ইকবাল হোসেন মিয়া, কোচ সোহাগ আলী, জাতীয় দলের সাবেক কৃতি ফুটবলার কোচ শরিফুল ইসলাম ও মতিয়ার রহমান মতি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক কৃতি খেলোয়াড় উস্তাদ বাবলুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল, মীর আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল, হাফিজুর রহমান জীবন, শরিফুল ইসলাম পিন্টু, আব্দুর রশিদ মঞ্জু, শেখ মহন, মামুন অর রশিদ মন্ডল, ইউনুস মাস্টার, সাজ্জাদ হোসেন, সাব্বির আহম্মেদ, মনিরুজ্জামান মনির, সুজা উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, কবীর, শুকুর আলী ও সাম্য।
প্রসঙ্গত, চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬”-এ আলমডাঙ্গা বালক ফুটবল ও ক্রিকেটে এবং বালিকা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়া ব্যাডমিন্টন, উশু, তায়কোয়ান্দো ও স্প্রিন্টেও একাধিক শিরোপা জিতে নেয় আলমডাঙ্গার কিশোর-কিশোরীরা।
সন্ধ্যা নামার পরও শহরের বাতাসে তখনো ভাসছিল বিজয়ের উচ্ছ্বাস। চায়ের দোকান, অলিগলি, মাঠের আড্ডা—সবখানেই একটাই আলোচনা—
“আলমডাঙ্গার ছেলেমেয়েরা শুধু ট্রফি জেতেনি, তারা পুরো শহরকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে।”
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১৬ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১৬ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৯ ঘন্টা আগে