সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে নয়, আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১ দলের সমাবেশের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি প্রশাসনের
ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের তীব্র প্রতিবাদ জানান বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত জিলা স্কুল মাঠের পরিবর্তে শহরের শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ আয়োজনের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এর আগে, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রেখে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে জিলা স্কুলের সামনে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। 'কুষ্টিয়া জিলা স্কুল সবার, ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্বও সবার' ব্যানার নিয়ে এতে অংশ নেন তাঁরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ হলে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইজাজ যারুল ইসলাম বলে, "স্কুলের মাঠ খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য। এখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আমরা সবসময় রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ চাই।" দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইহসান আল আসাদ জানান, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করছেন না, কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির বাইরে রাখার দাবি জানাচ্ছেন। সাবেক শিক্ষার্থী সাব্বির আল কাদেরী ও রাজিব আহসান রঞ্জু বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখাই সবার প্রাধান্য হওয়া উচিত।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া রুটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের স্থান হিসেবে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার আবেদনের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপারের মতামতের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (জুডিশিয়াল) মো. জাকিরুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুমতি দেওয়া হয়।
প্রশাসনের শর্তের মধ্যে রয়েছে—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, কোনো উসকানিমূলক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য না দেওয়া, নির্ধারিত সময়ে সভা শেষ করে মাঠ পরিষ্কার করা এবং মাইক ব্যবহারে জনদুর্ভোগ না ঘটানো। শর্ত অমান্য করা হলে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সমাবেশ বন্ধ করার পূর্ণ এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সমাবেশের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির খন্দকার এ কে মহসিন জানান, তাদের আয়োজন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার কোনো ইচ্ছা তাদের ছিল না। জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি না হওয়াই শ্রেয়। জেলা প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছে।