সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গা বধ্যভূমিতে টিকটক ভিডিও | ক্ষোভে উত্তাল স্থানীয়রা | শাস্তির দাবি
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিতে তিন নারীর টিকটক ভিডিও তৈরির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, শহীদের রক্তস্নাত ওই স্থানে গান-বাজনার তালে নাচানাচি করছেন ওই তিন নারী। ঐতিহাসিক এই স্থানের এমন অবমাননাকে জাতির আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন সংলগ্ন লালব্রিজ এলাকাটি ১৯৭১ সালের এক বিভীষিকাময় অধ্যায়ের সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এখানে প্রায় দুই হাজার নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছিল। নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও যুবকদের ওপর অমানবিক অত্যাচারের সেই স্মৃতি ধরে রাখতে পরবর্তী সময়ে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি এই স্থানটিকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সেই উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে। আলমডাঙ্গার বাসিন্দারা জানান, ঈদের পর থেকেই বধ্যভূমি এলাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। মাঝেমধ্যে জুতা পায়ে স্মৃতিস্তম্ভে উঠে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কেউ কেউ সচেতন হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো তদারকি বা ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন-
যেখানে আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্ত মিশে আছে, সেখানে কীভাবে মানুষ বিনোদনের নামে এমন অশোভন কাজ করতে পারে? এসব কর্মকাণ্ড যারা করে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র বাংলাদেশ-এর সভাপতি আতিকুর ফরায়েজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন:
"আলমডাঙ্গার এই ঐতিহাসিক বধ্যভূমি কোনো সাধারণ পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি আমাদের দুই হাজার শহীদের রক্ত আর অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এক পবিত্র শোকগাথা। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ ও সস্তা বিনোদনের মহড়া কেবল ওই নারীদের ব্যক্তিগত নৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় চেতনার মূলে কুঠারাঘাত। যারা ইতিহাসের রক্তমূল্য বোঝে না এবং বীর শহীদদের প্রতি নূন্যতম শ্রদ্ধা দেখানোর সৌজন্যবোধ রাখে না, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—অনতিবিলম্বে এই টিকটকারদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। বধ্যভূমির পবিত্রতা রক্ষায় এখানে কঠোর নিরাপত্তা ও তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় প্রজন্মের কাছে আমরা অপরাধী হয়ে থাকব।
সচেতন মহলের মতে, বধ্যভূমির মতো স্পর্শকাতর স্থানে অশালীন নৃত্য বা বিনোদনমূলক ভিডিও ধারণ কেবল অনৈতিক নয়, বরং এটি জাতীয় ইতিহাসের অবমাননা। ভিডিওতে থাকা ওই তিন নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারা আলমডাঙ্গার বাসিন্দা কি না, তাও জানা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঐতিহাসিক এই বধ্যভূমির সম্মান রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও কঠোর তদারকি না থাকলে এই স্মৃতিস্তম্ভটি তার গুরুত্ব হারিয়ে কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বধ্যভূমি রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
নওগাঁয় নিষিদ্ধ সংগঠনের ২ নেতা গ্রেপ্তার
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক ও চুরি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৮ জন গ্রেফতার
১ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সাড়ে ১৮ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক
৩ ঘন্টা আগে