সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
বেগমগঞ্জ সেতু কেলেঙ্কারি | ফুটপাতে বাঁশ ব্যবহারের দায়ে ২ প্রকৌশলী বরখাস্ত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে নির্ধারিত উপকরণের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক অফিস আদেশে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সেতু নির্মাণে মানসম্মত উপকরণের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি মোতাবেক তাঁরা খোরাকি/ভরণপোষণ ভাতা পাবেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে ৪৯.০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে নির্মাণাধীন সেতুটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ের কাজে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
পরিদর্শক দল দেখতে পান যে, ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কাজটি অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী করা হয়নি। এছাড়া, সেতুর রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে অনিয়মের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থায়নে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত সংশোধন করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন দাখিল করতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণের পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ী সুষম কাওনাইন ও তাঁর স্ত্রী এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামী আমিরুল ইসলাম কারপি গ্রেফতার
১ দিন আগে
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা গ্রেপ্তার
২ দিন আগে
শহর থেকে গ্রাম—মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর
৩ দিন আগে