সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
নির্ধারিত সময়ের ১০ বছর পরও অসম্পূর্ণ রুয়াপ | দখল ও মাদকের প্রতিবাদে বাসিন্দাদের মানববন্ধন
রাজধানীর উত্তরাস্থ রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে (রুয়াপ) দিন দিন সং সংকেত বাড়ছে আবাসিক পরিবেশ নিয়ে। প্রকল্প এলাকায় দিনদুপুরে অবৈধ দখলদারি, মাদকের বিস্তার ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই সমাপ্তি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তদারকির অভাবকে কাজে লাগিয়ে অসাধু চক্র নানামুখী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এসব অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে শুক্রবার সকালে রুয়াপের ৬ নম্বর প্রবেশপথের বিপরীতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ বাসিন্দারা। এতে শতাধিক অধিবাসী অংশ নিয়ে আবাসিক এলাকায় অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি এবং মাদকের আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অধিবাসীরা অভিযোগ করে জানান, সন্ধ্যার পর থেকে আবাসন এলাকার নির্জন জায়গাগুলোতে বহিরাগত ও স্থানীয় বখাটে যুবকদের আড্ডা বসে, যা মধ্যরাত পর্যন্ত গড়ায়। সেখানেই চলে মাদক সেবন ও বিক্রির কারবার।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের চলাচলের রাস্তা ও বর্জ্য শোধনাগারের জায়গা দখল করে বাজার বসানোর পাঁয়তারা চলছে। রুয়াপের ভেতর ও বাইরের একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এ ধরনের দখল ও চাঁদাবাজিতে জড়িত। আমরা যেকোনো মূল্যে এই অবৈধ তৎপরতা বন্ধ চাই।"
মানববন্ধন থেকে পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ চত্বর, রাস্তা ও ফুটপাত দখলের চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ এবং নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠে।
বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে রাজউক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ১০ বছর পার হলেও মূল কাজ শেষ হয়নি। বাণিজ্যিক এলাকা, কমিউনিটি সেন্টার, পার্কিং ভবন, সুইমিং পুল ও জিমনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো অসম্পূর্ণ। এছাড়া বহু ফ্ল্যাট এখনো বরাদ্দহীন পড়ে রয়েছে।
প্রবীণ নাগরিকদের সংগঠন 'নিসর্গ নীলিমা'র উদ্যোক্তা নিলোফার জাহান ববি বলেন, "একটি সরকারি আবাসন প্রকল্পে এসেও যদি অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির মুখে পড়তে হয়, তবে তা দুঃখজনক। আমরা একটি শান্ত ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।"
কৃষিবিদ শাহীন আনোয়ার বলেন, "সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। কোনোভাবেই কোনো অবৈধ দখলদারি আমরা সহ্য করব না।"
আরেক অধিবাসী মানিক মানবিক অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কতিপয় বাসিন্দা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন সড়ক ও ফাঁকা জায়গা দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সকাল-বিকেল বাজার বসিয়ে লোকসমাগম তৈরি করা হচ্ছে এবং সুযোগ বুঝে মাদকের আড্ডা গড়ে উঠছে।
এ অবস্থায় বাসিন্দাদের জোরালো দাবি, রাজউকের এই মেগা আবাসিক প্রকল্পে অবিলম্বে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সাথে প্রকল্পের অসম্পূর্ণ অবকাঠামো দ্রুত শেষ করে একটি নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়কের সিংহভাগই অবৈধ দখলে, সীমাহীন ভোগান্তিতে নগরবাসী
৪ দিন আগে
বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি
১ সপ্তাহ আগে
দখল আর যত্রতত্র পার্কিংয়ে সংকুচিত মাদানী অ্যাভিনিউ, ১০০ ফুটের সড়কে চলাচলের জায়গা মাত্র ১০ ফুট
১ সপ্তাহ আগে