আলমডাঙ্গায় ইউএনও পান্না আক্তার বিদায়ের বেলায় রেখে যাচ্ছেন মানবতার ঘ্রাণ, ফিরছেন কঠোর প্রশাসনের পরিচিত মুখ রেজওয়ানা নাহিদ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় ইউএনও পান্না আক্তার বিদায়ের বেলায় রেখে যাচ্ছেন মানবতার ঘ্রাণ, ফিরছেন কঠোর প্রশাসনের পরিচিত মুখ রেজওয়ানা নাহিদ
রহমান মুকুল:“চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে— আমার না-থাকা জুড়ে।"- রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ
প্রশাসনিক বদলি রাষ্ট্রযন্ত্রের নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনা। তবু কিছু বদলি কেবল দাপ্তরিক থাকে না; জনপদের ভেতর রেখে যায় অনুভূতির দীর্ঘ উজ্জ্বল রেখা, জনপদের দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেঁচে থাকে। আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক পরিবর্তনও যেন তেমন এক দ্বৈত অনুভূতির জন্ম দিয়েছে—একদিকে বিদায়ের বিষণ্নতা, অন্যদিকে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারকে চট্টগ্রাম বিভাগে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বর্তমান ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদকে আলমডাঙ্গার নতুন ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ আদেশ কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেজওয়ানা নাহিদ আলমডাঙ্গার জন্য নতুন কেউ নন। ইতোপূর্বে তিনি এ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় ভূমি অফিসের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দালালচক্র ও প্রশাসনিক শৈথিল্যের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের সমীহ দৃষ্টি কেড়েছিলেন। তিনি ছিলেন সংযত, দৃঢ় এবং সিদ্ধান্তে আপসহীন।
অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের যে জায়গাগুলো সময়ের সঙ্গে নরম হয়ে পড়ে, সেখানে রেজওয়ানা নাহিদ ফিরিয়ে আনতে জানতেন শৃঙ্খলার ভাষা, আইনগত কাঠামো। ফলে তার প্রত্যাবর্তনের সংবাদে আলমডাঙ্গার প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউএনও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁকে আলমডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও সামলাতে হবে।
পৌরসভার দীর্ঘ দুই বছরের অনিয়ম, অচলায়তন ভাঙ্গার দায়িত্বও নতুন ইউএনও'র উপর বর্তাবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান ইউএনও পান্না আক্তারও যতেষ্ট নৈব্যক্তিকতার পরিচয় দিয়েছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করেছেন অবলীলায়।
অন্যদিকে, বিদায়ী ইউএনও পান্না আক্তারের নাম উচ্চারণে মানুষের কণ্ঠে ভেসে উঠছে অন্যরকম এক আবেগ। অল্প সময়ের দায়িত্বকালেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসন শুধু ক্ষমতার কাঠামো নয়—এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও একটি শক্তিশালী শিল্প। দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার কঠিন দেয়াল ভেঙে তিনি খুব সহজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার ভেতর। আন্তরিকতার কোমল পেলব পরশ ছিল সর্বত্র।
কারও চোখের জল, কারও অসহায় আবেদন, কারও ছোট্ট সমস্যাকেও তিনি কেবল নথির ভাষায়, সরকার প্রদত্ত দায়িত্ব হিসেবে দেখেননি। যেন অনুভব করতেন—প্রতিটি আবেদনপত্রের পেছনে একটি মানুষের জীবন জমা থাকে। তাই তার কক্ষের চেয়ারে মানুষ কর্মকর্তা নয়, খুঁজে পেত এক ধরনের মানবিক আশ্রয়ও।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, তিনি প্রশাসনের চেয়ারকে দূরত্ব তৈরির জন্য ব্যবহার করেননি; বরং মানুষের কাছে যাওয়ার সেতু বানিয়েছিলেন। খুব অল্প সময়েই তিনি হয়ে উঠেছিলেন আপামর মানুষ।
তাই তার বিদায়ের সংবাদে অনেকের মুখে আজ উচ্চারিত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের সেই চিরকালীন পঙক্তি—
“মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।"
আলমডাঙ্গা এখন যেন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন স্বরের সামনে দাঁড়িয়ে—একজন বিদায় নিচ্ছেন মানবিকতার উষ্ণতা রেখে, আরেকজন ফিরছেন প্রশাসনিক দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে। জনপদ অপেক্ষা করছে নতুন সময়ের জন্য; কিন্তু কিছু মানুষ থেকে যান বিদায়ের পরেও, আচরণে, স্মৃতিতে, মানুষের মমতায়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গার পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ : নিউজ না করার জন্য হুমকি দিলেন জামায়াত নেতা
২২ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গায় কুমারী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
১০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় মাদক মামলার পলাতক আসামি লিজা এবং ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার
১০ ঘন্টা আগে