আলমডাঙ্গায় বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা।। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা।। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা
আলমডাঙ্গা পৌর বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা ইটের স্তুপ ফেলে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরে স্থানীয় এক ইটভাটা মালিক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য সাময়িক বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাস টার্মিনালের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে নির্মিত একটি রাস্তা দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই রাস্তার ওপর ইটের স্তুপ ফেলে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার দুপাশের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চললেও এর দায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তানো উচিত নয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ আগে কেন নেওয়া হয়নি?
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তার এক পাশের জমির মালিক রাজিবুল ইসলাম, রুমা খাতুন ও লিপ্তা খাতুনের সঙ্গে রাস্তার অপর পাশের জমির মালিক ইটভাটা ব্যবসায়ী জাবুর আলীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তিতে একাধিকবার পৌরসভার মাধ্যমে জমি মাপজোক করা হলেও কোনো পক্ষই সন্তুষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বর্তমানে এ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সম্প্রতি পৌরসভা টেন্ডার আহ্বান করে। ঈদের ছুটির মধ্যেই কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ওই সময় জাবুর আলী নিজের দাবি করা জমি বুঝে নেওয়ার যুক্তিতে রাস্তার ওপর ইট ফেলে চলাচল বন্ধ করে দেন এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ডও টানিয়ে দেন।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়। গত ৭ জুন সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য সাময়িক বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। এতে আপাতত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সমস্যা কিছুটা লাঘব হয়েছে।
আলমডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও সার্ভেয়ার মোর্শেদুর নাহার নিশি জানান, "বিবাদমান জমি একাধিকবার মাপজোক করা হয়েছে। প্রতিবারের জরিপে রুমা খাতুনের জমির ভেতরে প্রায় তিন ফুট জমি জাবুর আলীর পাওনা বলে দেখা গেছে। তবে সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনের মাপজোকে জাবুর আলীর কোনো জমি সেখানে পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। যদিও কমিশনের লিখিত প্রতিবেদন এখনও জমা হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, “রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক অভিভাবক এ কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতেও চাচ্ছে না। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ইউএনও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, “বিদ্যালয়ের যাতায়াত সংকট নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আপাতত বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জমি বিরোধের বলি যেন কোনোভাবেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হতে না হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গার পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ : নিউজ না করার জন্য হুমকি দিলেন জামায়াত নেতা
৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় কুমারী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
১৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় মাদক মামলার পলাতক আসামি লিজা এবং ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার
১৩ ঘন্টা আগে