আলমডাঙ্গা পৌরসভার প্রধান গেট
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গা কি এমনই থেকে যাবে?
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা। এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি এখন যেন তার জৌলুস হারিয়ে ধুঁকছে। জীর্ণ রাস্তাঘাট, দখল হওয়া ফুটপাত আর অব্যবস্থাপনার ভারে ন্যুব্জ এই পৌর শহরটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক যন্ত্রণার নাম। দিনের পর দিন সমস্যা ঘনীভূত হলেও সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—আলমডাঙ্গা কি এমনই থেকে যাবে?
পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়কগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র চারতলা মোড় থেকে শুরু করে হাসপাতাল সড়ক বা কলেজপাড়ার অলিগলি—কোথাও এক চিলতে মসৃণ পিচ খুঁজে পাওয়া ভার। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব খানাখন্দে পানি জমে তৈরি হয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। এখানে পৌর প্রশাসক মানে ঠুটো জগন্নাথ। অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে পৌরসভা। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের হাতে জিম্মি পৌরপ্রশাসন। অতিসম্প্রতি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় দেখা গেছে এক অদ্ভুত দৃশ্য—পৌরসভার সেবা না পেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই ড্রেন ও রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিনের অবহেলায় ক্ষুব্ধ জনতা যেন প্রশাসনের দিকে এক নীরব প্রতিবাদ ছুড়ে দিয়েছেন।
আলমডাঙ্গার অন্যতম প্রধান সমস্যা এখন অনিয়ন্ত্রিত যানজট। ফুটপাত বলতে যা বোঝায়, তার সিংহভাগই এখন হকার আর অবৈধ স্থাপনার দখলে। পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত ৬ জানুয়ারি সকালেই চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের মাধবীতলা এলাকায় বালুবোঝাই ট্রাক ও আলমসাধুর সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ড্রাম ট্রাক আর দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন এখন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে।
শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত অচল। অনেক জায়গায় ড্রেন দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ড্রেনের ওপরই তিনতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের নজরে থাকার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেনের নোংরা পানি উপচে মানুষের ঘরে ঢুকে পড়ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, কিন্তু সমাধান মিলছে না।
আমরা নিয়মিত পৌর কর দিচ্ছি, কিন্তু ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না। ড্রেনের পানি ঘরে ঢোকে, রাস্তায় বের হলে প্রাণ সংশয়—এভাবে একটা শহর চলতে পারে না।
— বকুল হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা।
শহরের জীবনব্যবস্থা এখন বিশৃঙ্খলার চরম পর্যায়ে। সম্প্রতি ডিজেল ও জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার দেখা গেছে আলমডাঙ্গায়। পাম্পগুলোতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন আর তেলের কৃত্রিম সংকট সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। পুলিশি অভিযান চললেও নেপথ্যের সিন্ডিকেট যেন রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আলমডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে তারা পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। তবে সেই আশ্বাস কবে বাস্তবে রূপ নেবে, তা নিয়ে সন্দিহান পৌরবাসী।
উন্নয়ন আর আধুনিকতার যুগে আলমডাঙ্গা কি আধুনিক নগরের ছোঁয়া পাবে, নাকি অব্যবস্থাপনার স্তূপের নিচেই চাপা পড়ে থাকবে—সেই উত্তর সময়ের কাছেই তোলা রইল।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক ও চুরি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৮ জন গ্রেফতার
১ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সাড়ে ১৮ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক
৩ ঘন্টা আগে
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ১৭ বছর ধরে জমি দখলের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি
৩ ঘন্টা আগে