সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গোখরার ছোবলে ওঝার করুণ মৃত্যু | ৭ ঘণ্টা ঝাড়ফুঁকও বাঁচাতে পারল না প্রাণ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বিষধর গোখরার কামড়ে আজাদুল ইসলাম ওরফে ঘুটু (৩০) নামের এক ওঝার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁক চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে সাপের কামড় খাওয়ার পর রাত ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল শিয়ালগাড়া গ্রামে। নিহত আজাদুল ইসলাম একই গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে আজাদুল ইসলামকে সাপ কামড় দেয়। তিনি শাখাহার ইউনিয়নের আসাদ মোড়ে প্রতি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পাতা খেলার জন্য কোচাশহর এলাকা থেকে একটি বিষধর গোখরা সাপ ধরে এনেছিলেন। বাড়িতে সাপটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় হঠাৎ সাপটি তাকে কামড় দেয়।
সাপের কামড় খাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে বিষ নামানোর জন্য উপজেলার রাজা বিরাটের পার্শ্ববর্তী শিবসমুদ্র এলাকার একজন ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁক করে বিষ নামানোর চেষ্টা করা হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে আজাদুলের স্বজনদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর রাত ১১টার দিকে তাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন প্রামানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক জানান, আজাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় পাতা খেলায় সাপ প্রদর্শন করতেন। সম্প্রতি তিনি কলাগাছে সাপ পেঁচিয়ে খেলা দেখাতেন। মঙ্গলবার এলাকায় পাতা খেলা অনুষ্ঠানে একটি বড় আকারের সাপ প্রদর্শনের পরিকল্পনা ছিল তার। এই উদ্দেশ্যেই নতুন ধরা সাপটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদার রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে অনেক সময় সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের স্বজনেরা হাসপাতালে না এনে প্রথমে ওঝার কাছে নেন। অনেক সময় বিষধর সাপ না হলে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ওই রোগীরা সুস্থ হয়ে যান। ফলে স্বজনেরা মনে করেন, ওঝার ঝাড়ফুঁকে ভালো হয়ে গেছে। বিপদটা তখনই হয়, যখন বিষধর সাপ কামড়ায় এবং সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া হয় না। তাই রোগীকে বাঁচাতে হলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে আনা প্রয়োজন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা
৩ মাস আগে
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে মাদকে বাধা দেওয়ায় চাচার গলা কেটে হত্যা, ভাতিজা অভিযুক্ত
৩ মাস আগে
ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা রাষ্ট্রের জন্য অশুভ সংকেত : ফখরুল
৬ বছর আগে